শিশুর দাঁত মাজার নির্দেশিকা
স্বাস্থ্যকর হাসি শুরু হয় ঘর থেকেই: আপনার সন্তানের দাঁত মাজার নির্দেশিকা
দুধের দাঁত কেন গুরুত্বপূর্ণ?
দুধদাঁত কেবল নামমাত্র দাঁত নয়। শিশুদের কামড়ানো ও চিবানো, কথা বলার বিকাশ, স্থায়ী দাঁত সঠিক স্থানে গজানো এবং হাসির সময় আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এগুলির ভূমিকা রয়েছে। দাঁতের যত্ন না নিলে দাঁত ক্ষয়ের কারণে ব্যথা, সংক্রমণ এবং দীর্ঘমেয়াদী মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আপনি কি জানেন?
5-9 বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ক্ষয়প্রাপ্ত দাঁত তুলে ফেলা হলো সবচেয়ে সাধারণ অস্ত্রোপচার।
একেবারে শুরু থেকে শিশুদের দাঁত মাজা তাদের মধ্যে শৈশব থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠা পর্যন্ত ভালো মৌখিক স্বাস্থ্যের অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
শিশুর দাঁত মাজা
কখন দাঁত মাজতে হবে:
- প্রথম দাঁত উঠলেই (সাধারণত প্রায় 6 মাসে) শুরু করতে হবে।
- বাড়িতে প্রতিদিন 2 বার দুবার দাঁত মাজতে হবে, বিশেষ করে ঘুমানোর আগে।
- আপনার সন্তানের বয়স 3 বছর হওয়া পর্যন্ত আপনি নিজেই ব্রাশ করে দিন। এরপর অন্তত 7 বছর বয়স পর্যন্ত নজরদারিতে রাখুন।
কীভাবে দাঁত মাজতে হবে
- প্রতিটি দাঁতকে আলাদা-আলাদা করে, মোট 2 মিনিট ব্রাশ করতে হবে।
- দাঁত ব্রাশ করার পর জল/পানি দিয়ে মুখ ধুবেন না, শুধু থুতু ফেলুন, যাতে ফ্লোরাইড দাঁতে লেগে থাকে।
- ছোট ছোট বৃত্তাকারে ব্রাশ করতে হবে, যাতে প্রতিটি দাঁত পরিষ্কার হয়। মাড়ি এবং দাঁতের পেছনের অংশও আলতোভাবে ব্রাশ করতে ভুলবেন না।
আপনার কী কী প্রয়োজন?
ছোট মাথার, নরম বা মাঝারি-নরম ব্রিসলযুক্ত টুথব্রাশ
প্রতি 3 মাসে একবার টুথব্রাশ বদল করুন, অথবা ব্রিসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার আগেই বদলান।
ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট
- - 3 বছরের কম
কমপক্ষে 1000ppm (পার্টস-পার-মিলিয়ন) ফ্লোরাইডযুক্ত অল্প পরিমাণ টুথপেস্ট - - 3+ বছর
1350–1500ppm ফ্লোরাইডযুক্ত মটরদানার সমান টুথপেস্ট
ফ্লোরাইডের মাত্রা জানতে টুথপেস্টের প্যাকেট চেক করুন।
সেরা পরামর্শ
- শিশুকে পুরো 2 মিনিট ব্রাশ করতে উৎসাহ দিতে টুথব্রাশ করার গান বা ভিজ্যুয়াল টাইমার ব্যবহার করুন। টুথব্রাশ করার গান পেতে আমাদের উপযোগী লিঙ্কের পেজ দেখুন।
- আয়না ব্যবহার করলে শিশু বুঝতে পারবে যে সে কোন জায়গায় ব্রাশ করছে।
- উৎসাহ দেওয়ার জন্য আপনার শিশুর সঙ্গে তার প্রিয় খেলনার দাঁতও ব্রাশ করুন।
- ভালোভাবে দাঁত মাজার উদাহরণ দিতে শিশুর সঙ্গে একসঙ্গে দাঁত মাজুন।
ভালো মৌখিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার অন্যান্য উপায়
শুধু দাঁত মাজাই সব নয়। আপনার শিশুর দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে আরও কিছু বিষয় মেনে চলা উচিৎ।
খাদ্যাভ্যাস
- খাদ্য বা পানীয়তে যুক্ত ‘ফ্রি সুগার’ (অর্থাৎ বাইরে থেকে যোগ করা চিনি) যেমন কেক, মিষ্টি, সস, জুস, স্মুদি এবং কিছু দই ও ব্রেকফাস্ট সির
- প্রধান পানীয় হিসেবে জল/পানি এবং দুধ দিন।. যদি মিষ্টি পানীয় দেন, তাহলে তা কেবলমাত্র খাবারের সময় দিন এবং ভালোভাবে জল/পানি মিশিয়ে পাতলা করে দিন।
- খাবারে মিষ্টি স্ন্যাকস ও পানীয় কমান।
- পাউচ থেকে চুষে খাওয়া খাবারের ব্যবহার সীমিত করুন। এগুলো ব্যবহার করলে চুষে না খেয়ে চামচে ঢেলে খাওয়ান।
বোতল, কাপ এবং চুমুক দিয়ে পান করা
- ৬ মাস বয়স থেকে খোলা কাপ বা ফ্রি-ফ্লো ভালভযুক্ত কাপ ব্যবহার করা শুরু করুন।
- ১২ মাস বয়স থেকে এমন বোতল বা চুমুক দেওয়ার কাপ এড়িয়ে যান যেগুলো থেকে চুষে খেতে হয়।
দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়া
- প্রথম দাঁত ওঠার পর এবং প্রথম জন্মদিনের আগেই আপনার সন্তানের প্রথম ডেন্টাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থির করুন।
- নিয়মিত চেক-আপ চালিয়ে যান – দাঁতের ডাক্তাররা সমস্যা আগেই শনাক্ত করতে পারেন এবং দাঁত ক্ষয় প্রতিরোধে সাহায্য করেন।
- আপনার সন্তানের মৌখিক স্বাস্থ্যের যত্ন সম্পর্কে ডেন্টাল টিমের কাছে পরামর্শ নিন।
বিশেষ শিক্ষাগত চাহিদা এবং অক্ষমতা (SEND) থাকা শিশুদের সহায়তা
SEND আছে এমন শিশুদের, বিশেষ করে যাদের সংবেদনশীলতা, অঙ্গসঞ্চালন দক্ষতা বা আদান-প্রদান করার সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য দাঁত ব্রাশ করা বেশি কঠিন হতে পারে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভালো দাঁত মাজার রুটিন গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বড় শিশুদের জন্য এটি শুরু করা আরও কঠিন হতে পারে। এই বিষয়ে প্রচুর বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও নির্দেশনা পাওয়া যায়।
সেরা পরামর্শ
- ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের টুথপেস্ট বা বিভিন্ন আকার ও টেক্সচারের টুথব্রাশ ব্যবহার করে দেখুন।
- ধীরে ধীরে দাঁত মাজা শুরু করুন: প্রথমে ঠোঁটে টুথব্রাশ ছোঁয়ান, তারপর ধাপে ধাপে মুখের ভিতরে নিয়ে যান।
- ভিন্ন জায়গায় (যেমন শোবার ঘর বা সোফায়) ব্রাশ করলে শিশুরা আরও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারে।